হাওজা নিউজ এজেন্সি: শহীদ উস্তাদ মূর্তজা মুতাহহারী (রহ.) তাঁর এক লিখিত রচনায় ‘সমাজের সকল স্তরের মানুষের নসিহতের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পাঠকদের জন্য তাঁর বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত অনুবাদ তুলে ধরা হলো:
ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের অন্যতম প্রয়োজন হলো নসিহত, উপদেশ এবং সতর্কতামূলক স্মরণ। বিশেষ করে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে এসব মানুষের আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র গঠনে অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ‘গাফলত’ এবং ‘জাহালত’ এক জিনিস নয়।
মানুষ জাহেল (جاهل) নাও হতে পারে, কিন্তু গাফেল (غافل) হতে পারে।
অর্থাৎ, মানুষ অনেক সময় সত্য সম্পর্কে অবগত থাকে, ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝে এবং নিজের দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন থাকে; কিন্তু পার্থিব ব্যস্ততা, প্রবৃত্তির অনুসরণ কিংবা অসতর্কতার কারণে সে সেই জ্ঞান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে পারে না। তখন তার প্রয়োজন হয় এমন নসিহত, যা তাকে জাগ্রত করবে এবং ভুলে যাওয়া সত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।
দুঃখজনকভাবে, আমাদের সময়ে সমাজে সৃষ্ট এক ধরনের সংকটজনক পরিস্থিতির কারণে উপদেশধর্মী মিম্বরের সংখ্যা কমে গেছে। যেমন আজ আমরা উপদেশমূলক কবিতাও খুব একটা দেখি না; কারণ, এ ধরনের আত্মশুদ্ধিমূলক চেতনা সমাজে আগের মতো সক্রিয় নেই।
মরহুম শাইখ জাফর শুশতারি (রহ.)’র মিম্বর এবং মরহুম হাজী শাইখ আব্বাস কুম্মি (রহ.)’র বক্তব্য—আমাদের যুগে এবং তার নিকটবর্তী সময়ে—উপদেশ ও আত্মসংশোধনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিল।
মরহুম সাইয়্যেদ মাহদী (রহ.) কাওয়ামের মজলিসও ছিল গভীর নসিহতমূলক। সাধারণত তাঁর মিম্বারে উপস্থিত মানুষ এক বিশেষ আত্মিক অবস্থার স্বাদ পেত এবং হৃদয় থেকে প্রভাবিত হতো।
একইভাবে মরহুম হাজী মির্জা আলী আকা শিরাজী (রহ.) এবং মরহুম হাজী শাইখ মুহাম্মাদ হাসান নাজাফাবাদিও (রহ.) তাঁদের উপদেশমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষের অন্তরকে আলোড়িত করতেন এবং আত্মশুদ্ধির পথে উদ্বুদ্ধ করতেন।
সূত্র: শহীদ অধ্যাপক মূর্তজা মুতাহহারী, ইয়াদদাশতহায়ে উস্তাদ, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৯০–৩৯১ (সংক্ষেপিত)।
আপনার কমেন্ট